Social Media

বাচ্চাদের উপর টেলিভিশনের প্রভাবঃ ভাল ও মন্দ দিক

August 02, 2021

প্রতিটি বাচ্চার জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে টেলিভিশন। সুপারহিরোদের জাদু প্রত্যেক্ষ করা থেকে শুরু করে হরর উইকএন্ডে সুর দেয়া, এসব দেখে বাচ্চারা টেলিভিশনের মাধ্যমে একটি মগ্ন অভিজ্ঞতা অর্জন করে এবং তাদের নিজস্ব জগতে বিচরণ করে। অবশ্য কখনও কখনও বাচ্চাদের আচরণ উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠে। কেননা, এই বিষয়টি নির্ভর করে তারা টেলিভিশনে কি ধরণের অনুষ্ঠান দেখছে তার উপর। চরিত্র এবং ব্যক্তিত্ব গঠন করে জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে টেলিভিশন। 

তাই শিশুর যতেœর বিষয়ে বিশেষভাবে মনোযোগী হোন, যেন টেলিভিশনের খারাপ দিকগুলোর প্রভাব বাচ্চার উপর না পড়ে। বরং টেলিভিশন দেখা যেন বাচ্চারা এন্টারটেনমেন্ট হিসেবে নেয়। 

যদি আপনি প্রত্যক্ষ করেন যে, আপনার শিশু অপরাধের নাটকগুলি বা হরর ফ্লিকগুলি দেখছে এবং ঘুমানোর সময় স্বপ্ন দেখছে তবে আপনি নিশ্চিত হতে পারেন যে, তার টেলিভিশন অভ্যাসের সাথে কিছু ভুল হচ্ছে। বাচ্চাদের বেশিরভাগ সময় টেলিভিশনের সামনে ব্যয় হলে এটি অবশ্যই তাদের ব্যক্তিত্ব এবং আচরণকে বদলে দেয়ার ক্ষেত্রে বিরাট প্রভাব ফেলবে। 

টেলিভিশনে সঠিক ধরণের অনুষ্ঠান বাচ্চাদের মধ্যে সামাজিক এবং পরিবেশগত সচেতনতাকে ছড়িয়ে দেয় এবং সামাজিক, সংবেদনশীল ও বুদ্ধিভিত্তিক বিকাশকে সামগ্রিকভাবে প্রচার করে। বাচ্চাদের টেলিভিশন দেখার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সময় নিশ্চিত করা এবং খেলা/অধ্যয়নের বিষয়ে একটি স্বাস্থ্যকর ভারসাম্যতা নিশ্চিত করা তাদের বুদ্ধিভিত্তিক ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনি চান না যে, তারা নষ্ট আলুর মতো হোক এবং স্বাস্থ্যকর সামাজিক ও শারীরিক ক্রিয়াকলাপ এড়িয়ে যাক!


বাচ্চাদের উপর টেলিভিশনের ইতিবাচক প্রভাবঃ 

টেলিভিশন দেখার অনেক সুবিধার মধ্যে কিছু সুবিধা নিচে তুলে ধরা হলো


এন্টারটেনমেন্ট

সিসেম স্ট্রিট থেকে ডোরা এক্সপ্লোরার এবং আর্থার পর্যন্ত এসব এন্টারটেন শো’গুলোর মাধ্যমে বাচ্চাদেও শেখানো হয় মানসিক ট্রমা পরিচালনা করা, সহকর্মীদের সাথে আলাপচারিতা করা, কঠিন পরিস্থিতিগুলির মধ্যে নেভিগেট করা। এবং ইন্টারেক্টিভ কুইজ ও বিভিন্ন দিক থেকে চিন্তাভাবনার মাধ্যমে বাচ্চাদের কল্পনাগুলো একত্রিত করে উদ্দীপনাসহ দক্ষতার আধিক্যও শিখিয়ে থাকে এসব শো’গুলো। এন্টারটেন প্রোগ্রামগুলো আপনার বাচ্চাদের ব্যস্ত রাখে, তাদের নতুন নতুন বিষয়ে শেখায় এবং মজা দেয়- এসবই এক প্যাকেজে!

এডুকেশন

এডুকেশনাল অনুষ্ঠানগুলি বাচ্চাদের গঠনশীল ও ভাল আচরণের শিক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে বেশ ভাল ভূমিকা পালন করে এবং সঠিক পদক্ষেপ নিতে অনুপ্রাণিত করে। যদি আপনার শিশু শিক্ষার প্রথাগত পদ্ধতি পছন্দ না করে তবে আপনার শিশুকে আনন্দ দিয়ে শেখানোর কাজে দুর্দান্ত মাধ্যম হতে পারে এডুকেশনাল অনুষ্ঠানগুলি। ওয়াইল্ড ক্র্যাটস, সিড দ্য সায়েন্স কিড, হানিয়া কামু এবং মিকি মাউস ক্লাবহাউসের মতো শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানগুলো বাচ্চাদের সমস্যা সমাধানের শিক্ষা দেয় এবং তাদের মানসিক, গানিতিক ও বিশ্লেষণী চিন্তার বিকাশের ক্ষেত্রে শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে দেয়।

স্পোটস 

টেলিভিশনে ফুটবল, ক্রিকেট এবং ভলিবলের মতো স্পোর্টস শোগুলি দেখা বাহিরের ক্রিয়াকলাপগুলিতে আগ্রহ বাড়ানোর এক দুর্দান্ত উপায় হতে পারে। স্পোর্টস শো বাচ্চাদের সক্রিয় ও স্বাস্থ্যকর হতে উৎসাহিত করে। এভাবে স্পোর্টস শো’গুলো তাদের শারীরিক পরিশ্রমের কাজে উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম করে যা বাচ্চাদের মানসিক এবং শারীরিক সুস্থতা বয়ে আনে।

কালচার ফেভার

আপনার বাচ্চা কি অন্বেষণ ও ভ্রমণ উপভোগ করে? তবে ভ্রমণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদেরকে বিশ্বের বিস্ময়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন। অন্যান্য সংস্কৃতি সম্পর্কে শেখা, সামাজিক শিক্ষা ও বিকাশের দক্ষতা বাড়িয়ে তুলবে, আপনার শিশুকে একটি সর্বজনীন চিন্তাবিদ হতে উৎসাহিত করবে টেলিভিশন এবং একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ফ্যাশনে আন্তর্জাতিক সহকর্মীদের সাথে যোগাযোগ ঘটাবে। 

ক্রিয়েটিভিটি

রান্না করা, বেকিং, আর্টস এবং কারুশিল্প থেকে সংগীত এবং থিয়েটার পর্যন্ত সৃজনশীলতা হল টেলিভিশন শোগুলির মূল ভিত্তি। সংগীত রচনা, অঙ্কন এবং পেইন্টিং জড়িত আর্ট চ্যানেল এবং অনুষ্ঠানগুলি মনকে উদ্দীপিত করে এবং বাচ্চাদের মন সত্যিকার অর্থে কি চাচ্ছে তার জবাব দিতে উৎসাহিত করে।

ইমপ্রোভড একাডেমিক পারফরমেন্স

যখন টেলিভিশনটি ব্যবহৃত হয় দায়বদ্ধভাবে, তখন আবেগময় ও এবং মানসিক সুস্থতার বিবেচনা করে তা অনুসরণ করা হয়। এটি উন্নত একাডেমিক কর্মক্ষমতা বাড়ায়। গবেষকদের মতে প্রমাণিত হয়েছে, যেসব শিশু তথ্যমূলক এবং শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানগুলি দেখে তারা একাধিক মানক পরীক্ষায় সমবয়সীদেরকে ছাড়িয়ে যায়। এমনকি মধ্য এবং উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমে শীর্ষস্তরে পারফর্ম করে। 



হেলথি স্ট্রেস রিলিফ

যেসব বাচ্চারা স্কুল বা বাহিরের পরিবেশে মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যায়, টেলিভিশন শো’গুলি তাদের জন্য স্বাস্থ্যকর মানসিক প্রোগ্রাম সরবরাহ করে শিশুর মেজাজ এবং মানসিক সমস্যার জন্য আশ্চর্যজনক কাজ করে। সেইসঙ্গে তাকে মানসিক চাপ থেকে রক্ষা করে যা তাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

প্রযুক্তি এবং সর্বশেষ ট্রেন্ড সম্পর্কে শিক্ষা

উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শিশুদের জন্য সমুদ্রের তলদেশের জগতের নানা উপাদান দেখানো হয় টেলিভিশনে। এতে বাচ্চারা উন্নত সব সরঞ্জামাদি ও কৌশল দেখতে পারে এবং সামাজিকভাবে আপ টু ডেট থাকে। টেলিভিশনের মাধ্যমে বাচ্চারা আরও জ্ঞানী ও আলোকিত হয়ে ওঠে। 

ভাষা ও ইমোশনাল স্কিল

যদি আপনি দেখেন আপনার শিশু কোনও নতুন ভাষা শিখছে বা কথার নকল করছে, সেক্ষেত্রে আপনি ভাষা প্রোগ্রাম ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তাকে শব্দভান্ডার ও বাক্য গঠন বুঝাতে সহায়তা করতে পারেন। ইতিবাচক টেলিভিশন শো’গুলি মানসিক আচরণকে উন্নত করে এবং বাচ্চাদের এমন সামাজিক দক্ষতা শেখায় যা তাদের সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

টেলিভিশন দেখায় ব্যস্ত রাখাঃ

যদি আপনার শিশু নিয়মিত বাড়িতে লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে আপনাকে অস্থির করে রাখে এবং এক মিনিটের জন্যও আপনি বাচ্চাকে শান্ত রাখতে পারেন না, তবে একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতে তাকে টেলিভিশনে বিভিন্ন ধরণের ভাল প্রোগ্রাম দেখায় সংযুক্ত করুন। এটিই সৃজনশীল সমাধান। এটি তার জ্ঞান বিকাশে কোন ক্ষতি না করে তাকে ব্যস্ত রাখবে। তবে, আপনার এটি নিশ্চিত করা দরকার যে, টেলিভিশনটি যেন নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দেখে। কোনভাবেই তা যেন অভ্যাসে পরিণত না হয়।


সামাজিক অংশগ্রহণে উৎসাহঃ 

শিশুরা যেসব চরিত্রগুলি টেলিভিশনে দেখে মুগ্ধ হয় এবং যেগুলো তাদের পছন্দের তালিকায় সেরা হয়, সেগুলোকে তারা বাস্তব জীবনে অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এটি প্রতিযোগিতামূলক কাজ এবং ইভেন্টগুলিতেও প্রযোজ্য। উদাহরণস্বরূপ, যদি তাদের পছন্দের চরিত্রটি অনুকরণ করে পরীক্ষায় তাদের ভাল পারফর্ম হয় এবং খেলাধুলা ও সামাজিক ইভেন্টগুলিতেও তারা স্বাভাবিকভাবে অংশ নেয়, তখন তারা আচরণগুলি নকল করুক, এগুলো তাদের উন্নয়নে দারুণ সহায়তা করবে। 

ব্যক্তিত্ব ও উন্নত স্বাধীন চিন্তার বিকাশঃ 

টেলিভিশনে শিক্ষণীয় শো’গুলো বাচ্চাদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষেত্রে দক্ষ করে তোলে এবং তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট পরিধির বাইরে থেকে বিভিন্নভাবে ভাবাতে শেখায়। এই দক্ষতাগুলি এমন একটি বিশ্বের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ যা সৃজনশীলতা এবং বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তাভাবনার দিকে মনোনিবেশ করে।

বাচ্চাদের উপর টেলিভিশনের নেতিবাচক প্রভাবঃ


বাচ্চাদের জন্য টেলিভিশন দেখার অনেকগুলো অসুবিধার মধ্যে কিছু নিচে তুলো ধরা হলো-


স্টিলস টাইমঃ 

যেসব শিশু টেলিভিশনের সামনে খুব বেশি সময় ব্যয় করে তারা জীবনের সুযোগগুলি হাতছাড়া করতে পারে। আপনার শিশু যদি টিভি দেখার জন্য খুব বেশি সময় ব্যয় করে তবে সে মূল্যবান সময় হারাতে পারে। তাই এই সময়গুলো নষ্ট না করে ভাল বন্ধুদের সাথে মিশতে পারে, হোমওয়ার্কে মনোযোগ দিতে পারে, বাইরে খেলাধুলা করতে পারে এবং এরুপ কাজের মতো অন্যান্য উৎপাদনশীল কাজে সময় ব্যয় করতে হবে। 

ভাষা এবং সামাজিক দক্ষতার অভাবঃ

এটি পূর্বে উল্লেখিত টিভির ইতিবাচক প্রভাবগুলির সাথে বিরোধী মনে হতে পারে। তবে এটি মূলত দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বাচ্চাদের মস্তিস্ক দুই বছর বয়সের আগেই উন্নত অবস্থায় পৌঁছে, এই অবস্থা তখনই ঘটে যখন মস্তিস্ক পুনরায় সংশোধন করে এবং সামাজিক এবং মানসিক শিক্ষাকে উৎসাহ দেয়। টেলিভিশন ব্যক্তিগত স্তরে আপনার শিশুকে মনস্তাত্তি¡কভাবে হাসি, কথা বলতে বা ইন্টারঅ্যাক্ট করে না। এটি আপনার সন্তানের মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে। এমনকি পরবর্তী বছরগুলিতে টেলিভিশন দেখার জন্য খুব বেশি সময় ব্যয় করা আপনার সন্তানের সামাজিক যোগাযোগকে সীমাবদ্ধ করতে পারে, এভাবে তার ভাষা এবং সামাজিক দক্ষতাগুলিকে দীর্ঘকাল ধরে প্রভাবিত করে।

সৃজনশীলতা ও কল্পনাশক্তি নষ্ট করেঃ 

আপনার শিশু যদি বাইরে গিয়ে সত্যিকারের পৃথিবী অন্বেষণ করার পরিবর্তে টিভিতে বেশি সময় ব্যয় করে তবে তার দৃঢ় কল্পনাশক্তি বিকশিত হবে না। যেহেতু ধারণাগুলি পর্দার সামনে উপস্থাপন করা হয়, তাই যে সমস্ত শিশুরা অতিরিক্ত মাত্রায় টেলিভিশন দেখে তারা তাদের মনকে নিজেরা উদ্দীপিত করতে পারে না। নিজেরা নতুন করে ধারণা করতেও পারে না। এভাবে তাদের কল্পনাশক্তি গ্রাস হতে থাকে এবং নিজেদের সৃজনশীলতা নষ্ট হয়।



মনোযোগের অভাবঃ

যে সমস্ত শিশুরা প্রতিদিন টেলিভিশনের সামনে ২ থেকে ৩ ঘন্টার বেশি সময় ব্যয় করে তারা প্রায়শই শ্রেণিকক্ষে মনোযোগের অভাবে ভোগে। এ সমস্ত বাচ্চাদের এডিএইচডি (মনোযোগ-ঘাটতি হাইপার অ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার) দ্বারা নির্ণয়ের আরও বেশি আশংকা থাকতে পারে। ফোকাসের এই অভাব এবং কম মনোযোগের লক্ষণগুলো পড়াশোনা ছাড়াও অন্যান্য দিকগুলোতেও দেখা যায়। যেমন, খেলাধুলায়। এছাড়াও শিশু ক্র্যাফটের মতো সৃজনশীল এবং শান্ত মনস্তাত্তি¡ক কোনও কর্মকান্ডে অংশ নিতে পারে না। 

আনপ্রোডাকটিভঃ 

জীবনে নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর বিশেষ দিক হলো পরিশ্রমী ও ক্রিয়েটিভ হওয়া। যদি আপনার শিশুটি নিয়মিত টেলিভিশ দেখে, কিন্তুু সে একাডেমিক, সামাজিক বা মানসিক জীবনে মাইলফলক অর্জন করছে না, সমস্ত সময় টেলিভিশনের সামনেই ব্যয় করে, তবে তা কেবল সময়ের অপচয়ই করছে। 

অবিসিটি/স্থূলতাঃ 

যেসব বাচ্চারা খুব বেশি টেলিভিশন দেখে তারা স্থূলত্ব এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত অসুস্থতার ঝুঁকিতে থাকে। এটা অস্বাভাবিক নয় যে, অল্প বয়স্ক বাচ্চারা যখন অতিরিক্ত মাত্রায় টেলিভিশন দেখে তখন তাদের হাই স্কুল চলাকালীন সময়ে কিশোর বয়সে পৌঁছে তখন তারা ভাল কিছু অর্জন করতে পারে না। 

হার্ট ও চোখের ঝুঁকিঃ 

যেসব বাচ্চারা খুব বেশি টেলিভিশন দেখে তারা অলস চোখের সিনড্রোম হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই অবস্থায়, শিশুটি চোখে অস্পষ্ট দেখে, তার দৃষ্টিশক্তি কমে যায়; যা চশমা বা লেন্স দ্বারা সঠিকভাবে সংশোধন করা যায় না। টেলিভিশন দেখার আসক্তি বাচ্চাকে স্বাভাবিক শারীরিক ব্যয়াম করা থেকে বিরত রাখে এবং অলস জীবনযাপনে উৎসাহ দেয়। এই দুটি কারণে হার্ট ও মস্তিকে বিরোপ প্রভাব পড়তে পারে। এটি শেষ পর্যন্ত কার্ডিওভাসকুলার এবং সরু ধমনী সমস্যায় রুপ নেয়। 

নেতিবাচক আচরণঃ

গবেষণা অনুসারে, অত্যধিক টেলিভিশন দেখা মস্তিস্কের কাঠামোর পরিবর্তন করে ফেলতে পারে এবং নেতিবাচক আচরণে উৎসাহিত করতে পারে। বিশেষত সহিংসতা এবং আগ্রাসনকে উৎসাহিত করতে পারে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অনুপোযুক্ত অনুষ্ঠান দেখার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে বাচ্চারা এই সমস্যার ঝুঁকিতে বেশি।

নিজের উপর প্রভাবঃ 

বাস্তবতাকে অতিরঞ্জিত করে এবং বিশ্বের একটি বিকৃত দর্শন প্রচার করে টেলিভিশন প্রোগ্রামগুলো। এভাবে বাস্তব জীবন থেকে পিঁছিয়ে পড়ে শিশুরা নিজেদের মধ্যে অপর্যাপ্ততা বোধ করতে পারে।

মানসিক পরিবর্তনঃ

যে শিশুরা যৌনতা, মাদক এবং অ্যালকোহলের অপব্যবহারকে হাইলাইট করে তা সংবেদনশীল পরিবর্তনগুলোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। যেহেতু তারা এই বিষয়গুলোর অনেকগুলো বোঝার ক্ষেত্রে খুব কম বয়সী তাই তারা বাস্তবতার পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গি পেতে পারে এবং মানসিকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।

মন্দ একাডেমিক পারফরম্যান্সঃ 

টেলিভিশন দেখার জন্য অনেক সময় ব্যয় করায় বাচ্চারা অন্যান্য অংশগ্রহণমূলক কাজ থেকে পিছিয়ে পড়ে। টেলিভিশন দেখার কারণে মাঝে মাঝে স্কুলে যায় না এবং হোমওয়ার্কও করে না। এটি তাদের একাডেমিক কর্মক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয়।

শেখার ক্ষেত্রে সমস্যাঃ 

অতিরিক্ত টেলিভিশন দেখার জন্য বাচ্চাদের সাধারণ শ্রবনশক্তির পর্যায় কমে যায় এবং অনুন্নত হয়ে যায় তাদের শ্রবণ দক্ষতা। আর এর প্রভাব পড়ে তাদের সৃজনশীল দক্ষতা বা কর্মকান্ডে। বাচ্চারা যখন শারীরিক এবং মানসিকভাবে উদ্দীপক কোনও কাজেকর্মে ব্যস্ত না থাকে তখন এরুপ ঘটে। খুব বেশি টেলিভিশন দেখে যেসব বাচ্চাদের এডিএইচডি বিকাশিত হয়, তাদের মনোযোগশক্তি নষ্ট হয়ে যায় এবং পড়াশোনার সময় ফোকাসের ঘাটতি হয়।

টেলিভিশনের খারাপ প্রভাব থেকে পিতামাতারা তাদের সন্তানদের বাঁচাতে কী করতে পারেন?


*টেলিভিশন দেখার ক্ষেত্রে বাচ্চাদেরকে নির্দিষ্ট পরিমাণ সময়সীমা বেঁধে দিন। 

*আপনার বাচ্চা অনুপোযুক্ত কোন অনুষ্ঠান দেখছে কি না তা নজরে রাখুন এবং তার জন্য মানসম্মত অনুষ্ঠান নিশ্চিত করুন। 

*সন্তানদেরকে একসাথে নিয়ে টেলিভিশন দেখুন যাতে তারা নিশ্চিত হয় যে, অনুষ্ঠানগুলো তথ্যবহুল, শিক্ষামূলক এবং ইন্টারেক্টিভ। এর ফলে পিতা-মাতা ও সন্তানদের মধ্যেও বন্ধন শক্ত হবে। 

*শোবার ঘর থেকে টেলিভিশনটি দূরে রাখুন এবং অনুষ্ঠান শেষে তা বন্ধ করুন। 

*টেলিভিশন দেখার সময় এবং অন্যান্য কাজের সময় বাচ্চাদের সাথে সুন্দর ও সুস্থ সম্পর্ক বিকাশে সহায়তা করুন। 

*নিয়মগুলো খুব কঠিন না করার চেষ্টা করুন, কারণ এটি শিশু ও টেলিভিশনের মধ্যে নেতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে।

বাচ্চাদের কি টিভি দেখা উচিত?

বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ হচ্ছে- যেসব বাচ্চা কেবল বর্ণমালা শিখছে এবং দু'বছরের নীচে শিশুদের টেলিভিশন দেখা পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। কারণ এই বয়সে শিশুদের মস্তিস্ক বিকশিত হয়। তাই টিলিভিশন দেখলে তাদের মস্তিস্ক দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এই বয়সে বাচ্চারা সংবেদনশীলতা ও সামাজিক দক্ষতা শিখছে, সুতরাং এই সময়টা হলো তাদের সাথে কথাবার্তা বলার, তাদের আবেগের মূল্যায়ণ ও যতœ নেয়ার, এবং পডতে, লিখতে ও আঁকতে উৎসাহ দেয়ার। এই পর্যায়ে তাদের জ্ঞান বিকশিত হওয়ার একটি বড় অংশ দেখা দেয়, এজন্যই দুই বছরের কম বয়সী বাচ্চাদেরকে টেলিভিশন থেকে দূরে রাখা ভাল।

টেলিভিশন দেখা সংযমের ক্ষেত্রে বেশ ভাল কাজ করে। আপনি নিশ্চিত করুন আপনার শিশু মানসম্পন্ন প্রোগ্রামগুলি দেখছে এবং তার সময় ভালকিছু করে ব্যয় করছে। বাচ্চার সঠিকভাবে বেড়ে ওঠা এবং তার মানসিক বিকাশও আপনি নিশ্চিত করবেন। টেলিভিশন দেখা দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশ এবং এটা যদি যতেœর সাথে যথাযথভাবে প্রয়োগ হয়, সেক্ষেত্রে আপনার শিশু এটি থেকে শিখে শেষ করতে পারবে!


PreviousExperience Great Sound With Beats’s Headphone NextProducts Necessery For Mom